পুলিশে চাকরি পেতে যা করবেন

ফাইল ছবি
মাহমুদ নাসের জনি
৩০তম বিসিএস পুলিশ, পুলিশ কমিশনার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও প্রতিরোধ টিম, গোয়েন্দা ও অপরাধ বিভাগ, ডিএমপি ঢাকা

পুলিশ ক্যাডারে আসতে প্রাথমিকভাবে কী ধরনের যোগ্যতার প্রয়োজন হয় বলে আপনি মনে করেন?

প্রথমেই বলে নেই সাধারণ পুলিশে আসতে হলে আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। সাধারণ ও অন্যান্য কোটায় প্রার্থীর বয়স মাধ্যমিক বা সমমানের সনদ অনুযায়ী বয়স হতে হবে ১৯ বছর থেকে ২৭ বছর। মুক্তিযোদ্ধা/ শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের ক্ষেত্রে বয়স ৩২ বছর হতে হবে। তবে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের সন্তানের ক্ষেত্রে বয়স ২৭ বছরই হতে হবে। তবে যারা বিসিএসের মাধ্যমে পুলিশ ক্যাডারে আসতে চান তাদের বেলায় আগে বিসিএসে উত্তীর্ণ হতে হবে। এ জন্য বিসিএসের জন্য যে প্রস্তুতি নেয়ার প্রয়োজন হয় সেটাই যথেষ্ট। তবে মানসিকভাবে পুলিশ ক্যাডার হওয়ার ইচ্ছা থাকাটা আবশ্যক। যদি কেউ পুলিশ ক্যাডার হতে চান তবে বিসিএস পরীক্ষাতে ভালো নম্বর তুলতে হবে। পুলিশ ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা যেসব বিশেষ এবং আকর্ষণীয় সুযোগ সুবিধা পছন্দের শীর্ষে থাকে। তাই যার নম্বর বেশি, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তারাই পছন্দের ক্যাডার পেয়ে থাকেন। পুলিশ ক্যাডার হয়ে এলে একজন নাগরিক হিসেবে যাবতীয় সরকারি সুবিধাদি ভোগ করতে পারেন। এছাড়াও বৈচিত্র্যময় প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশে সফর, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজের সুযোগ, উচ্চশিক্ষার সুযোগ, বিভিন্ন ভাষা শেখার সুযোগ, সার্বক্ষণিক গাড়ি সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে উন্নত অবস্থানে থাকতে পারেন।

এখন যে কনস্টেবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। এ ক্ষেত্রে চাকরির জন্য কী ধরনের যোগ্যতার প্রয়োজন হয়?

কনস্টেবল পদে নিয়োগ পেতে যোগ্যতার বিষয়ে আগেই বলেছি। উক্ত বিষয়গুলো ছাড়াও শিক্ষাগতযোগ্যতা সর্বনিম্ন এসএসি পাস হতে হবে। পুরুষ প্রার্থীর ক্ষেত্রে উচ্চতা পাঁচ ফুট চার ইঞ্চি ও বুকের মাপ স্বাভাবিক অবস্থায় ৩০ ইঞ্চি ও সম্প্রসারিত অবস্থায় ৩২ ইঞ্চি হতে হবে। নারী প্রার্থীর ক্ষেত্রে উচ্চতা হতে হবে পাঁচ ফুট দুই ইঞ্চি। পুরুষ-নারী সবার ক্ষেত্রে উচ্চতা ও বয়সের সঙ্গে ওজন অনুমোদিত পরিমাপক হতে হবে। আর পরীক্ষার জন্য সাধারণ জ্ঞান বাংলা, ইংরেজি ও পুলিশ বিষয়ে জানা থাকাটা প্রয়োজন। পুলিশের চাকরির জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসাবে সায়েন্স, আর্টস বা কমার্স দেখা হয় না।

শিক্ষার্থী থাকাকালীন এ পেশায় আসার ব্যাপারে কোনো প্রস্তুতি ছিল কী আপনার?

আসলে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বিসিএসের ব্যাপারে এখনকার ছেলে-মেয়েদের মতো এতটা ভাবিনি। তাই পড়ালেখা বিষয়ে ওই সময় এতটা চেষ্টাও ছিল না। গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার পর বিসিএসের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করি। তবে এ জন্য আহামরি কোনো প্রস্তুতি ছিল না। তবে ছোটবেলা থেকেই এ পেশার প্রতি আগ্রহ ছিল।

পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগে কেন আসলেন?

ওই যে বললাম ছোটবেলা থেকেই পেশার প্রতি একটা আগ্রহ ছিল। নিজের অনেক আত্মীয় পুলিশ বাহিনীতে থাকায় তাদের দেখে মনে হয়েছে পেশাটা অনেক রোমাঞ্চকর। এছাড়াও ছোটবেলা থেকেই গোয়েন্দা সিরিজগুলোর প্রতি আসক্তি থাকায় এর প্রতি আগ্রহ জন্মে।

পুলিশের যে কোনো বিভাগে ক্যারিয়ার গড়তে চাইছে তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?

মূলত যারা স্বপ্ন দেখেন সমাজের অন্যায়কে প্রতিহত করার। তারাই এ পেশায় আসতে পারেন। মানুষের সেবার জন্য এর চেয়ে উত্তম পেশা আমার দৃষ্টিতে নেই। মনে রাখতে হবে শত বছরের ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক আমাদের বাংলাদেশ পুলিশ। বাংলাদেশ পুলিশের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। এই গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস যারা সমুন্নত রাখতে পারবেন তারাই যেন এ পেশায় আসেন।

এ পেশায় কোনটি বেশি জরুরি। শারীরিক যোগ্যতা না মানসিক যোগ্যতা?

এ পেশায় শারীরিক এবং মানসিক যোগ্যতা দুটোই সমানভাবে প্রয়োজন। কারণ প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে দিয়ে যেতে হয় একজন পুলিশকে। যারা মানসিক ও শারীরিকভাবে দুর্বল তাদের জন্য এ পেশা না। চ্যালেঞ্জিং পেশার জন্য অবশ্যই সবদিক থেকে ফিট থাকতে হবে।

You may also like...