লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে স্বপ্নের ক্যারিয়ার

দেশে বর্তমানে সম্ভাবনাময় শিল্পের মধ্যে চামড়া শিল্প বেশ সাড়া জাগিয়েছে। বাংলাদেশে প্রস্তুতকৃত চামড়ার গুণগতমান ভালো হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারেও এর রয়েছে বেশ কদর। এজন্য চামড়া ও চামড়াশিল্পজাত পণ্য উৎপাদনকারী বহু প্রতিষ্ঠান তাদের ব্যবসার রুটিন করে সম্প্রসারণ করে যাচ্ছে। চামড়াশিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি দেশে প্রায় সাড়ে চার হাজার ছোট জুতা ও চামড়াজাত পণ্য তৈরির কারখানা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রক্রিয়াজাত চামড়া ও জুতার পাশাপাশি নানা ধরনের চামড়াজাত পণ্য দেশে তৈরি হচ্ছে। এসব পণ্যের রফতানি আয়ও দ্রুত বাড়ছে। এই শিল্প দ্রুত সম্প্রসারণের জয়গান শুনে এখানে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী হলের অসংখ্য তরুণ। আপনিও লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়ে আপনার স্বপ্নময় ক্যারিয়ার গড়তে পারেন।

লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার সূচনা : পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে চামড়া ও চামড়াজাত শিল্পে কারিগরিভাবে দক্ষ জনসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ১৯৪৭ সালে ‘ইস্ট বেঙ্গল ট্যানিং ইন্সটিটিউট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৪৯ সালে এই প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৫২ সালে ‘ইস্ট পাকিস্তান ইন্সটিটিউট অব লেদার টেকনোলজি’ নামে এর নতুন নাম দেয়া হয়। স্বাধীনতার পর এটি ‘বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব লেদার টেকনোলজি’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ডিরেকটরেট অব টেকনিক্যাল এডুকেশনের (ডিটিই) তত্ত্বাবধানে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত এখানে ডিপ্লোমা, সার্টিফিকেট কোর্স এবং কারিগরি পর্যায়ের শিক্ষা ব্যবস্থা চালু ছিল। অর্থনীতিতে চামড়া শিল্পের অবদানের কথা চিন্তা করে বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৯-১৯৮০ সালে এই প্রতিষ্ঠানটিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনস্টিটিউট কলেজ হিসেবে নিয়ে উন্নত সিলেবাসের মাধ্যমে লেদার টেকনোলজিতে বিএসসি প্রোগ্রাম চালু করা হয়। ওই সময় এই ইন্সটিটিউটটির নাম দেয়া হয় ‘বাংলাদেশ কলেজ অব লেদার টেকনোলজি’। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে ১৯৯৯-২০০০ সেশনে বিএসসি ইন লেদার টেকনোলজির পাশাপাশি আরও ২টি বিষয়ে বিএসসি ডিগ্রি চালু করা হয়। সেগুলো হচ্ছে- বিএসসি ইন ফুটওয়্যার টেকনোলজি ও বিএসসি ইন লেদার প্রোডাক্টস টেকনোলজি। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবগঠিত ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের অধীনে ডিগ্রির নাম পরিবর্তন করে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং এবং প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলাদেশ কলেজ অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি’ করা হয়। লেদার প্রকৌশল শিক্ষাকে আরও যুগোপযোগী করতে ২০১১ সালের ২০ জুন এই প্রতিষ্ঠানটিকে পরিপূর্ণভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি স্বতন্ত্র ইন্সটিটিউট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে এর নামকরণ করা হয় ‘ইন্সটিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি’।

বাড়ছে কর্মসংস্থান : লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১১০টি রফতানিমুখী কারখানায় চামড়ার জুতা তৈরি হয়। এর মধ্যে এপেক্স, এফবি, পিকার্ড বাংলাদেশ, জেনিস, আকিজ, আরএমএম বেঙ্গল এবং বে এম্পোরিয়ামের রয়েছে নিজস্ব ট্যানারি ও চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা। এর বাইরে শুধু চামড়া প্রক্রিয়াজাত করে এমন কারখানার সংখ্যা ২০৭টি। এ খাতের সঙ্গে সরাসরি জড়িত আছে প্রায় ৮ লাখের বেশি মানুষ। এতে কর্মসংস্থানও বাড়ছে দিন দিন।

দরকার দক্ষ জনবল : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেদার ইন্সটিটিউটের শিক্ষকরা জানান, যারা লেদার প্রকৌশলী হয়ে বের হবেন তাদের চাকরির ক্ষেত্র অবারিত। প্রকৌশলীরা বিভিন্ন চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য উৎপাদন ইন্ডস্ট্রিতে কর্মজীবন শুরু করতে পারবেন। বাংলাদেশে নামকরা বিভিন্ন ব্র্যান্ড জুতা তৈরি হচ্ছে। প্রকৌশলীদের ইয়ংওয়ান, বাটা, এপেক্স, বে, জেনিস, ফরচুন, এফবি, লেদারেক্স, ল্যান্ডমার্ক, ক্রিসেন্ট, ভেনচুরা ইত্যাদি কোম্পানিতে চাকরির সুবিধা রয়েছে। দেশ ছাড়াও দেশের বাইরে এই বিষয়ের অসংখ্য শিক্ষার্থী কর্মরত রয়েছেন। ইয়ংওয়ান, বাটা, এপেক্স কিংবা নতুন উঠে আসা চামড়ানির্ভর করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো মুখিয়ে থাকে এমন দক্ষ প্রকৌশলীর জন্য, যাদের তত্ত্বের সঙ্গে রয়েছে বাস্তব জ্ঞান। যারা নিজেদের মেধা আর পরিশ্রমে এগিয়ে নেবেন চামড়াশিল্পকে। এছাড়া পিকার্ড, এডিডাস, নাইকি, টিম্বারল্যান্ড, ডেক্যাথলন, পুমাসহ নামকরা ব্র্যান্ড ও বায়িং হাউজেও তাদেও কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

সাক্ষাৎকার সবুর আহমেদ

যুগান্তর : লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে যারা পড়ছে তাদের প্রসপেক্ট সম্পর্কে জানতে চাই?

সবুর আহমেদ : চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানি আয়ের উৎস। এ শিল্পে মূল্যসংযোজনের হার প্রায় ৯০% থেকে ২৫০% এবং এর মূল কাঁচামাল দেশীয় কাঁচা চামড়া যা মাংস শিল্পের একটি উপজাত পণ্য। জলবায়ু ও প্রকৃতিগত কারণে আমাদের দেশীয় কাঁচা চামড়ার বুনন অত্যন্ত সুন্দর ও টেকসই বিধায় বহির্বিশ্বে এর চাহিদা প্রচুর। তাছাড়া উন্নত বিশ্বে শ্রমমূল্য অধিক হওয়ায় শ্রমঘন শিল্পসমূহ উন্নয়নশীল দেশে স্থানান্তরিত হচ্ছে। এক্ষেত্রে জনবহুল এই দেশে লেবার ইনটেনসিভ ইন্ডাস্ট্রি যেমন- লেদার, ফুটওয়্যার ও লেদার প্রোডাক্টস ইন্ডাস্ট্রির সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। লেদার সেক্টরে বর্তমানে প্রত্যক্ষ ও পরক্ষভাবে প্রায় নয় লাখ জনবল জড়িত। এটি বর্তমান সরকারের একটি অগ্রাধিকার প্রাপ্ত সেক্টর। বর্তমান সরকারের উদ্যোগে এ বছরের মধ্যেই সব ট্যানারি সাভার লেদার ভিলেজে স্থানান্তরিত হলে লেদার ইঞ্জিনিয়ারদের প্রসপেক্ট উজ্জ্বল থেকে আরও উজ্জ্বলতর হবে। সেখানে পরিবেশবান্ধব মানসম্মত লেদার তৈরি হবে যা থেকে তৈরিকৃত জুতা ও চামড়াজাত পণ্যের মান উন্নত হবে। ফলে বিশ্ববাজারে পণ্যের চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং আগামী কয়েক বছরের মধ্যে চামড়া খাতের আয় ৫ বিলিয়ন অতিক্রম করবে।

যুগান্তর : লেদার প্রকৌশলীদের সরকারি কোন কোন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার সুযোগ আছে?

সবুর আহমেদ : বিসিএসসহ সরকারি প্রায় সব চাকরির পরীক্ষায় লেদার প্রকৌশলীদের প্রতিযোগিতা করার সুযোগ রয়েছে। নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে এনএসআই, র‌্যাব, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো, লেদার রিসার্স ইন্সটিটিউট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইন্সটিটিউট, ডিটিই, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এলএসবিপিসি, এসএমই ফাউন্ডেশন, অর্থ মন্ত্রণালয়াধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ইত্যাদি ক্ষেত্রে চাকরির যথেষ্ট সুবিধা রয়েছে। এছাড়া অদূর ভবিষ্যতে জেলা পর্যায়ে এবং স্থল, নৌ ও বিমান বন্দরে লেদার প্রকৌশলী নিয়োগ সুবিধা পাওয়া যাবে বলে আমার বিশ্বাস।

যুগান্তর : বিসিএসসহ সরকারি চাকরিতে লেদার প্রকৌশলীদের সাফল্য কেমন?

সবুর আহমেদ : আমাদের বহু লেদার শিক্ষার্থী বিসিএস প্রশাসন, পররাষ্ট্র, পুলিশসহ বিভিন্ন ক্যাডারে কর্মরত আছেন। আমার জানা মতে তাদের সবাই স্ব স্ব কর্মক্ষেত্রে সফল। বিসিএস ছাড়াও অন্যান্য সরকারি চাকরিতে লেদার প্রকৌশলীদের শতভাগ সাফল্য রয়েছে।

যুগান্তর : বেসরকারি কোন কোন সেক্টরে লেদার ইঞ্জিনিয়ারদের কাজের সুযোগ হচ্ছে?

সবুর আহমেদ : লেদার ইঞ্জিনিয়ারদের কাজের মূল ক্ষেত্র হচ্ছে দেশী-বিদেশী বিভিন্ন লেদার, ফুটওয়্যার ও লেদার প্রোডাক্টস উৎপাদনকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান। উৎপাদিত চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের মান যাচাইয়ের জন্য আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যেমন ইন্টারটেক, এসজিএস, ব্যুরো ভেরিটাস, ট্যুভ-স্যুড, বিএসটিআই, এলআরআই ইত্যাদি বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে লেদার ইঞ্জিনিয়ারদের কাজের সুযোগ অবারিত। তাছাড়া ডাইসম্যান, টিম্বারল্যান্ড, ডিক্যাথলন, কারি, এডিডাস, নাইকি, পুমা প্রভৃতি নামকরা বিদেশী বায়িং হাউজে লেদার ইঞ্জিনিয়ারদের উচ্চ বেতনে চাকরি হচ্ছে।

যুগান্তর : এডিডাস, পুমা, নাইকি, বাটাসহ বিশ্বমানের লেদার প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর কোন যোগ্যতাগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়?

সবুর আহমেদ : এসব প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজারিয়াল পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর একাডেমিক রেজাল্টের পাশাপাশি স্মার্টনেস, কমিউনিকেশন স্কিল, প্রবলেম সলভিং এবিলিটি, চাপ নিয়ে কাজ করার ক্ষমতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা, ইতিবাচক মনোভাব ও উদ্যোমকে সাধারণত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়।

যুগান্তর : লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং, ফুটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং ও লেদার গুডস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের গ্রাজুয়েটদের মধ্যে চাকরি বাজারে কাদের চাহিদা সবচেয়ে বেশি?

সবুর আহমেদ : তিনটি বিভাগের গ্রাজুয়েটদেরই মূল কাজের ধরন প্রায় একই রকম। তবে লেদার ইঞ্জিনিয়ারদের দায়িত্ব হল গুণগতমান সম্পন্ন ফিনিসড চামড়া তৈরি করা যা দিয়ে উপযুক্ত চামড়াজাত পণ্য তৈরি হয়। তেমনি ফুটওয়্যার ও লেদার প্রোডাক্টস ইঞ্জিনিয়ারদের কাজ হল ফিনিসড চামড়াকে কার্যকরী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাক্সিক্ষত ডিজাইনের গুণগতমান সম্পন্ন পাদুকা ও চামড়াজাত পণ্য যেমন ব্যাগ, ওয়ালেট, বেল্ট, লেদার গার্মেন্টস ইত্যাদি প্রস্তুত করা। চাকরির ক্ষেত্রে চামড়া শিল্পের পাশাপাশি ফুটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রির সংখ্যাও বাড়তে থাকায় লেদার ও ফুটওয়্যার গ্রাজুয়েটদের আপাত সুবিধা বেশি বলে আমি মনে করি। তবে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হওয়ার ক্ষেত্রে লেদার প্রোডাক্টস গ্রাজুয়েটদের সুবিধাই বেশি।

যুগান্তর : লেদার প্রকৌশলীদের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার ঝোঁক কতটা আছে?

সবুর আহমেদ : এটি খুবই ইতিবাচক যে, লেদার প্রকৌশলীদের মধ্যে বর্তমানে উদ্যোক্তা হওয়ার যথেষ্ট প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের পাশাপাশি বর্তমানে সদ্য পাস করা নতুন গ্রাজুয়েটরাও উদ্যোক্তা হিসেবে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য তৈরি ও বাজারজাত করছে।

যুগান্তর : লেদার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থীরা প্রায়োগিক শিক্ষা কতটা পাচ্ছে?

সবুর আহমেদ : ফ্যাশন ওরিয়েন্টেড চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের ডিজাইন দ্রুত পরিবর্তনশীল। কাজেই টেকনোলজি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শিক্ষার্থীদেরও তা গ্রহণ করতে হয়। এ কারণে পর্যাপ্ত ল্যাব সুবিধার প্রয়োজন হয়, যা আমাদের আছে তবে আরও বৃদ্ধি করা উচিত। প্রায়োগিক শিক্ষার ক্ষেত্রে সর্বাগ্রে প্রয়োজন মেধাবী ও দায়ীত্ববোধ সম্পন্ন পর্যাপ্ত সংখ্যক শিক্ষক। বর্তমানে আমাদের স্থায়ী শিক্ষকের সংখ্যা অত্যন্ত অপ্রতুল হওয়ায় (পরিচালকসহ মাত্র ১২ জন শিক্ষক) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরিচালক অধ্যাপক মো. আফতাব আলী শেখ, পিএইচডি স্থায়ী শিক্ষকের প্রায় চারগুণ পরিমাণ খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োজিত করে শিক্ষা কার্যক্রমকে বেগবান করার চেষ্টা করছেন। তাছাড়া টেকসই প্রায়োগিক শিক্ষা নিশ্চিত করণের নিমিত্তে আমাদের ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক স্যারের নির্দেশনায় পূর্ববর্তী পরিচালকের মতো বর্তমান পরিচালকও পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ ও ল্যাব উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছেন। এ আগে দেয়া তিনটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রায় ১৩ জন শিক্ষকের নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন আছে।

যুগান্তর : দেশের চামড়া শিল্পের জন্য যে পরিমাণ জনবল দরকার, সংশ্লিষ্ট ডিগ্রিধারী সেই পরিমাণে দক্ষ জনবল আমাদের আছে বলে আপনি মনে করেন কি?

সবুর আহমেদ : এই প্রশ্নের এক কথায় উত্তর হচ্ছে ‘না’।

যুগান্তর : আমাদের লেদার প্রকৌশলী ছাত্রদের বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ হচ্ছে কতটা?

সবুর আহমেদ : বিদেশে লেদার বিষয়ক বিশ্ববিদ্যালয় কম থাকায় লেদারের পাশাপাশি এনভায়রনমেন্ট সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, পলিমার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স, ডিজাইনিং, প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োলজিক্যাল সায়েন্স ইত্যাদি বিষয়ে আমাদের লেদার প্রকৌশলের ছাত্রদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ হচ্ছে।

যুগান্তর : চামড়া শিল্পে আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কী কী উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে?

সবুর আহমেদ : প্রথমত, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের গুণগতমান বৃদ্ধি করে বিদেশে এর চাহিদা বাড়াতে হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এলএসবিপিসি, এসএমই ফাউন্ডেশন, অর্থ মন্ত্রণালয়াধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ইত্যাদির মাধ্যমে উদ্যোক্তা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। ক্রাষ্ট ও ফিনিসড চামড়া রফতানি সংকুচিত করে চামড়াজাত পণ্য রফতানিকে উৎসাহিত করতে হবে।

যুগান্তর : আমাদের সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

সবুর আহমেদ : আপনাকে ও আপনার মাধ্যমে যুগান্তরের পাঠকগণকে ধন্যবাদ।

You may also like...